শনিবার ১৩ জুন ২০২৬
Online Edition

ডিম পেতে সমস্যা যেখানে

ডিম শুধু গরীবেরই প্রোটিন নয়, সবার জন্যই প্রোটিন এবং উপাদেয়ও বটে। অথচ এই ডিম এখন যেন সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে থাকতে চাইছে না, আসলে বলা দরকার নাগালের মধ্যে থাকতে দিচ্ছে না। ফলে প্রশ্ন জাগে, কারা থাকতে দিচ্ছে না? তাদের ব্যবস্থাপনা বা কৌশলের রূপ কেমন? এ ব্যাপারে কথা বলার চেষ্টা করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। তিনি বলেছেন, বাজারে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য দূর করতে উৎপাদকদের সমবায় সমিতি গঠন করতে হবে। উৎপাদকেরা সমবায়ের মাধ্যমে আড়তদারদের সরাসরি ডিম সরবরাহ করতে পারবে। এভাবে উৎপাদক-আড়তদার লাভবান হবে এবং ভোক্তারা সাশ্রয়ী মূল্যে ক্রয় করতে পারবেন ডিম। ১৯ অক্টোবর দুপুরে পাবনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলার মৎস্যজীবী ও প্রাণিসম্পদের প্রান্তিক খামারিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ফরিদা আখতার আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা বলেছেন। উপদেষ্টা বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে দেশে অত্যধিক গরম ও শীতের ফলে ডিমের উৎপাদন ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে। এছাড়া সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণেও অনেক খামার নষ্ট হওয়ায় ডিমের উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটেছে। এছাড়া মুরগির খাদ্য ও বাচ্চার মূল্যের ঊর্ধ্বগতির বিষয়টি উল্লেখ করে উপদেষ্টা খামারিদের ‘চুক্তিভিত্তিক খামারি’ না হয়ে স্বাধীন খামারি হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, কন্ট্রাক্ট ফার্মিয়ের মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা ইচ্ছে মতো ব্যবসা করে লাভবান হচ্ছে, কিন্তু প্রকৃতরা লাভবান হচ্ছে না। ফিডের ক্ষেত্রে কয়েকটি কোম্পানির হাতে সবাইকে জিম্মি হতে দেয়া হবে না। এব্যাপারে সরকার ব্যবস্থা নেবে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা নারী উদ্যোক্তাদের শুধু পোল্ট্রি নয়, দেশি মুরগি পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশি মুরগি ও ডিমের উৎপাদন বাড়ালে অর্থনৈতিকভাবে আরও বেশি লাভবান হওয়া সম্ভব। আগে গ্রামীণ নারীরা হাঁস-মুরগি পালন করতেন। নিজেরা গ্রামেই পাইকারদের কাছে বিক্রি করতেন। এভাবে তাঁরা অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে অভদান রাখতে পারতেন। সেই অবস্থা আবার ফিরিয়ে আনতে হবে। এজন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নিতে হবে। পাবনার বিভিন্ন উপজেলার মৎস্যজীবী ও খামারিদের সমাবেশে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার যে বক্তব্য রেখেছেন, তাতে অনুপ্রাণীত হওয়ার কারণ আছে। তিনি শুধু সমস্যার কথা বলেননি, সমধানের ইঙ্গিতও দিয়েছেন। ডিম ও মুরগি ব্যবসায় মধ্যস্বত্বভোগী ও বড় বড় কিছু কোম্পানির আগ্রাসনের কথা আমরা জানি। বাজারে তারা বৈষম্য ও শোষণের ব্যবস্থা কায়েম করে রেখেছে। উপদেষ্টা আগ্রাসন থেকে রক্ষা পেতে উৎপাদকদের সমবায় সমিতি গড়ে তুলতে বলেছেন। নারী উদ্যোক্তাদের তিনি দেশি মুরগি পালনের আহ্বান জানিয়েছেন। সরকারি সহযোগিতারও আশ^াস দিয়েছেন। মাঠ পর্যায়ের উৎপাদকদের সমর্থনে উপদেষ্টার বক্তব্য বৈষম্য ও আগ্রাসন অবসানে অবদান রাখতে পারে। এমনটি হলে উপকৃত হবে দেশের জনগণ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ